Md Rezaul Islam
প্রকাশ : Apr 15, 2026 ইং

হরমুজ প্রণালি ও সৌদি-ইরান সম্পর্কের নতুন রসায়ন

রিয়াদ/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মুখে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক অবস্থান অনেক বিশ্লেষককে চমকে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে রিয়াদ কেন এই কৌশলগত জলপথে তেহরানের পক্ষ নিচ্ছে বা অন্তত তাদের ওপর চাপের বিরোধিতা করছে, তার পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ।


১. অর্থনৈতিক রূপান্তর ও 'ভিশন ২০৩০' রক্ষা

সৌদি আরবের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো তাদের অর্থনৈতিক মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (MBS) ভালো করেই জানেন, ইরানের সাথে কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার কয়েক বিলিয়ন ডলারের 'ভিশন ২০৩০' ও পর্যটন প্রকল্পগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এই প্রকল্পগুলোর সাফল্যের জন্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

২. মার্কিন অবরোধ ও পাল্টা হামলার ঝুঁকি

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে, তাদের বন্দরগুলো নিরাপদ না থাকলে উপসাগরীয় কোনো দেশই নিরাপদ থাকবে না। সৌদি আরব মনে করে, ইরানের ওপর অত্যধিক চাপ বাড়ালে ইরান মরিয়া হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তেল অবকাঠামোতে (যেমন: আরামকো) হামলা চালাতে পারে। ২০১৯ সালের হামলার স্মৃতি এখনো রিয়াদের নীতিনির্ধারকদের মনে তাজা।

৩. সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন

২০২৫ সালের ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার সময় সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। এর মাধ্যমে রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, তারা আর কোনো পশ্চিমা শক্তির 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহৃত হতে চায় না। তারা এখন চীনের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া ২০২৩ সালের সমঝোতাকে টেকসই করতে চায় এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী।

৪. জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। এই পথে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি ওপেক প্লাস (OPEC+) এর স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। সৌদি আরব চায় না যুদ্ধাবস্থার কারণে তেলের বাজারে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক।

৫. কূটনৈতিক ভারসাম্য

সৌদি আরব বর্তমানে মাল্টি-পোলার বা বহুমুখী কূটনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, অন্যদিকে চীন ও ইরানের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। 'ইসলামিক সংহতি'র বার্তা দিয়ে রিয়াদ এখন নিজেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

সংক্ষেপে: সৌদি আরবের এই অবস্থান ইরানের প্রতি কোনো অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং এটি একটি 'প্র্যাগম্যাটিক' বা বাস্তববাদী কৌশল। রিয়াদ বিশ্বাস করে, তেহরানকে কোণঠাসা করার চেয়ে আলোচনার টেবিলে রাখাই তাদের নিজ দেশের নিরাপত্তার জন্য বেশি কার্যকর।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স এবং আন্তর্জাতিক থিঙ্ক-ট্যাংক রিপোর্ট (এপ্রিল ২০২৬)।

হরমুজ প্রণালির এই সংকট যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কি সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নেবে বলে আপনি মনে করেন?


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

1

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

2

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

3

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

4

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

5

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

6

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

7

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

8

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

9

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

10

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

11

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

12

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

13

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

14

আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের

15

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

16

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

17

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

18

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

19

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

20